যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকটের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সোমবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা এ সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের উপসচিব আলী বাঘেরি ইরানের টেলিভিশনে বলেন, মক্কা জোটের সদস্য সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পশ্চিম এশিয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তেহরান সফর করবেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অংশ নেবেন। তুরস্কের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন প্রতিনিধিদলে থাকবেন। বাঘেরি আরও বলেন, ইরান আঞ্চলিক বিষয়ে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ও প্রভাবের বিরোধী। বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় তিনি জানাননি, তবে ইরানের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বৈঠক সোমবারই হতে পারে।
সৌদি আরবের জনকূটনীতিবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ক্রিমলির ভাষ্য অনুযায়ী, এ সফর মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশগুলোর সংকট-সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানে উৎসাহ দেওয়ার চলমান প্রচেষ্টার অংশ। একই সঙ্গে কাতার ও পাকিস্তানের নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতা উদ্যোগকেও সমর্থন করা হবে বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, এসব যোগাযোগ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে জোটের সদস্যদের ভূমিকা এবং সব দেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরে।