তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়ক চলাচলের প্রায় অনুপযোগী: দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
রাজশাহীর ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ তানোর-মোহনপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে খানাখন্দে ভরা।
রাজশাহীর তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তানোর থেকে মোহনপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বিশেষ করে, কাশেম বাজার থেকে মোহনপুর থানার গেট পর্যন্ত এবং মোহনপুর উপজেলার পোল্লাকুড়ি গ্রামের মসজিদ থেকে পূর্ব দিকে সড়কের একটি অংশের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তানোর-বায়া সড়কের নির্মাণকাজ চলায় তানোর-মোহনপুর সংযোগ সড়কে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়েছে। ভারী যানবাহনের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং ও ইট-সুরকি উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া, সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের গর্তগুলো পানির নিচে ঢাকা পড়ে, যা পথচারী ও যানবাহনের চালকদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। এতে রিকশা, ভ্যান, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা জানিয়েছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত এই সড়কটি দীর্ঘদিন আগে নির্মাণ করা হলেও পরে আর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত বা সংস্কার করা হয়নি। বিকল্প ভালো সড়ক না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভারী যানবাহনের চাপের কারণে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এলাকাবাসী জনদুর্ভোগ কমাতে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, পানি নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি উঠেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত সরেজমিনে সড়কটির অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাজশাহী নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা আফরিন ঝিনুক বলেছেন, “এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত করেনি। খোঁজ নিয়ে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।”