বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে হামলা: কী বলছেন শীর্ষ নেতারা

ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ, বাম সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘মব সন্ত্রাসের’ অভিযোগ

শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি
ছবি: শিবির সভাপতি ও সেক্রেটারি

সংগঠনটির দাবি, প্রশাসনের অনুমোদনপ্রাপ্ত শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতার পরিচিত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সংশ্লিষ্ট বাম গোষ্ঠী। বিবৃতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ, আইনের শাসন অবমাননা এবং ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার | বারিন্দ পোস্ট | ঢাকা, ৬ আগস্ট ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির আয়োজিত '৩৬ জুলাই: আমরা থামব না' শীর্ষক কর্মসূচিতে বামপন্থি সংগঠনের একাংশের হামলার অভিযোগ উঠেছে। শিবির নেতারা একে 'মব সন্ত্রাসের ঘৃণ্য নজির' হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনের অনুমোদিত ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালীন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। এতে শিবিরের নেতাকর্মীরা হেনস্তার শিকার হন এবং কর্মসূচির পরিবেশ নষ্ট হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের বিভাজনের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদের পাটাতন নির্মাণে যারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়, সেই শাহবাগপন্থি বাম সন্ত্রাসীরা আবারও তাদের পরিচিত পথ অনুসরণ করেছে। এ হামলা তাদের ধারাবাহিক মব সন্ত্রাসের আরেকটি ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত।”

ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ

ছাত্রশিবির দাবি করে, সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েমকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়, যা তার ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে।

তারা বলেন, “এ ধরনের আচরণ কেবল অশোভন নয়, বরং রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।”

বাম রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা

বিবৃতিতে বামপন্থি সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক দর্শনের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, “তাদের রাজনীতি জনগণের কল্যাণে নয়, বরং বিভাজন, আধিপত্যবাদ, বিচারহীনতা ও গণহত্যার বৈধতা সৃষ্টির দিকে মুখো। তারা নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। ২০১৩ সালে শাহবাগে তারা যে বিচারিক হত্যার সংস্কৃতি চালু করে, তার দায় এড়াতে পারে না।”

আদালতের রায় উপেক্ষা করে ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগ

শিবির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, “ঢাবি ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এটিএম আজহারুল ইসলাম দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক খালাসপ্রাপ্ত হওয়ার পর, তার মুক্তির দিন বিভিন্ন স্থানে বামপন্থিরা মব তৈরি করে আইনের প্রতি চরম অবমাননা করেছে।”

তারা অভিযোগ করেন, এই গোষ্ঠী শাপলা চত্বরে 'গণহত্যা', গুম, খুন, দুর্নীতি এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণের পেছনেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল।

‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ আখ্যা

শিবির নেতারা বলেন, “এই বামপন্থিরা ইতিহাসের পাতায় ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবেই চিহ্নিত থাকবে। ২০২৪ সালের গণহত্যার দায় তারা এড়াতে পারবে না। তাদের রাজনীতি ইতিহাসের জঞ্জাল ছাড়া আর কিছুই নয়।”

সকল পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান

বিবৃতির শেষাংশে ছাত্রশিবির রাজনৈতিক সহনশীলতা ও নিয়মতান্ত্রিক পথে আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে বলে, “আমরা সকল পক্ষকে আহ্বান জানাই, মব সন্ত্রাস, দোষারোপের রাজনীতি ও ঐক্যবিনাশী কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে একটি গঠনমূলক, নিয়মতান্ত্রিক এবং ছাত্রকল্যাণমূলক রাজনীতির চর্চা গড়ে তোলা হোক।”