বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের মোকামে আবার বাড়ছে চালের দাম, কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে; আমন আসার আগে অস্থিরতার আশঙ্কা

দেড় থেকে দুই মাস স্থিতিশীল থাকার পর বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের মোকাম-মিলগেটে পাইকারি দাম বাড়তে শুরু করেছে; ব্যবসায়ীরা ধান, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচকে দায়ী করছেন।

উত্তরাঞ্চলের প্রধান চালের মোকামগুলোতে গত দেড় থেকে দুই মাস স্থিতিশীল থাকার পর আবারও চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের চালের পাইকারি দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ধানের দাম বেড়ে যাওয়া, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খরচ বাড়া এবং বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকাকে এর কারণ হিসেবে দেখছেন মিলমালিক ও ব্যবসায়ীরা। মিলগেট থেকে পাইকারি ও খুচরা—সব পর্যায়েই এর প্রভাব পড়ছে।

ইরি-বোরো মৌসুমের ধান ঘরে তোলা শেষ হলেও নতুন আমন বাজারে আসতে আরও প্রায় এক মাস বাকি। এই মধ্যবর্তী সময়ে চালের বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বগুড়া, নওগাঁ ও জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মোকাম ও মিল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত দুই মাস সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের কারণে অনেক মিলে কাজের চাপ কম ছিল; সম্প্রতি চাহিদা বাড়ায় সেসব মিলে ব্যস্ততা ফিরতে শুরু করেছে।

নওগাঁর মোকামে পাইকারি বাজারে এখন প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ চাল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, জিরাশাইল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭৮ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, এক মাসের বেশি সময় মোকাম ও মিলগেটে ক্রেতা প্রায় ছিল না; বাজারে ধস নামার আশঙ্কাও ছিল। সরকারি গুদামে এবার চালের মজুত বেশি থাকায় বাজার এত দিন স্থিতিশীল ছিল। এখন চাহিদা বাড়ায় দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। স্বর্ণা-৫ ও জিরাশাইলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট ও কাটারিভোগের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।

সান্তাহারের এক অটোরাইস মিলমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধান কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ, প্যাকেজিং ও পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে খরচ বেড়েছে, তাই আগের দামে চাল সরবরাহ করা কঠিন। জয়পুরহাট চেম্বারের সভাপতি আনোয়ারুল হক আনু বলেন, ইরি মৌসুমের শেষ এবং আমন বাজারে আসার আগের প্রায় এক মাস চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়; এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তিনি বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর ব্যবস্থাপনা দ্রুত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাঝারি মানের (পাইজাম ও আটাশ) চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে সর্বনিম্ন ৫৮ টাকায় দাঁড়ায়, যা আগে ছিল ৫৫ টাকা। এরপর আর দাম বাড়েনি। এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গত সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে; আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন আমন ধান বাজারে আসার আগ পর্যন্ত সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তাই বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহের খরচ পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা।