রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যার বিচার চেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বলছে ‘অন্ধকারে হাতড়ানোর’ মতো তদন্ত

বাস টার্মিনালের কাউন্টারে গুলিতে নিহত পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার মানববন্ধন ও ঢাকা–খুলনা মহাসড়কে অবরোধ হয়েছে।

মাগুরায় যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যার বিচার ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁরা শহরের ঢাকা–খুলনা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। শনিবার দুপুরে মাগুরা শহরের ঢাকা রোড এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

গত বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে একটি পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হন শাকের হোসেন। পরে তিনি মারা যান। কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কাজ করা শাকের মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়–সংলগ্ন সড়কে পৌরসভার ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে মানববন্ধন হয়। এতে জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারাও অংশ নেন। বক্তারা প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করেন। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার না হলে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। একই সঙ্গে ঘটনায় দায়িত্বশীলভাবে খবর প্রচারের জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

কর্মসূচির সময় প্রায় ৪৫ মিনিট শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে কেশব মোড় পর্যন্ত সড়ক অবরুদ্ধ ছিল। এরপর দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা রোড বাসস্ট্যান্ড ও পারনান্দুয়ালী এলাকায় ঢাকা–খুলনা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়কের দুই প্রান্তে যানজট তৈরি হয়। খবর পেয়ে মাগুরার সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে। তাঁর অনুরোধে দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান বলেন, নিহত যুবকের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কোনো শত্রু ছিল না। ঘটনাস্থলের কোনো স্পষ্ট ফুটেজ নেই, নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত কোনো আসামিও নেই। তাঁর ভাষ্য, ‘আমরা অন্ধকারে হাতড়ানোর মতো করে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।’

ঘটনার পরদিন দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন শাকেরের স্ত্রী। সেই রাতেই সন্দেহভাজন হিসেবে রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম (৩১) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁদের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত দুজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে ধরা হয়েছে, তবে তাঁরা সরাসরি জড়িত কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তদন্তের সব তথ্য প্রকাশ করলে প্রকৃত আসামিরা পালিয়ে যেতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং তদন্তের জন্য কিছুটা সময় চান।