চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব জুয়েল রানা। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন। তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর হবে।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চসিক নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহাদাত হোসেনের প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছিল ৫২ হাজার ৪৮৯। নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেছিলেন নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন। পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে রায় দেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নথির বরাতে জানা গেছে, ২০২১ সালে নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। তবে শাহাদাত হোসেন আগে দাবি করেছিলেন, আদালতের আদেশে তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, আদালত তাঁকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি।
এর আগে গত মার্চেও তাঁকে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ, কিন্তু তখন আদেশ জারি হয়নি। নির্বাচন আয়োজনের জন্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।