বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে, মুখোমুখি নোয়েল টাটা ও চন্দ্রশেখরন

চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ ও টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে তোলার প্রশ্নে টাটা ট্রাস্টস ও টাটা সন্সের পর্ষদের বিরোধ এখন আইনি লড়াইয়ের দিকে গড়াচ্ছে।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতার লড়াই চরমে পৌঁছেছে। এক পক্ষে গোষ্ঠীর হোল্ডিং কোম্পানি টাটা সন্সের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মালিক দাতব্য সংস্থা টাটা ট্রাস্টস ও এর চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। অন্য পক্ষে টাটা সন্সের নির্বাহী চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরন ও পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে আমার দেশ জানিয়েছে, ১৫৮ বছরের পুরোনো এই গোষ্ঠীতে কর্মী ১০ লাখের বেশি, বার্ষিক আয় প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ডলার। বিমান পরিবহন, হোটেল, জীবনবিমা, চা, ঘড়ি থেকে শুরু করে ভারতে আইফোন উৎপাদনেও যুক্ত টাটা।

পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিরোধ

ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চন্দ্রশেখরন গত ১২ আগস্ট পর্ষদকে জানান, ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বর্তমান মেয়াদ শেষে তিনি আর পুনর্নিয়োগ চাইবেন না। আমার দেশের প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় তিনি সতর্ক করেছিলেন, নেতৃত্ব নিয়ে ‘সর্বসম্মত সমর্থনের অভাব’ প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারে।

কিন্তু ১৭ সেপ্টেম্বরের সভায় পর্ষদ তাকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়। তিনি রাজি হলে ৪-১ ভোটে আরও পাঁচ বছরের জন্য তাকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। একমাত্র বিরোধী ভোটটি দেন নোয়েল টাটা।

টাটা ট্রাস্টসের দাবি, প্রস্তাবটি বৈধভাবে পাস হয়নি এবং শুরু থেকেই তা অকার্যকর। তাদের যুক্তি, টাটা সন্সের সংঘবিধির ১২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি ট্রাস্টের মনোনীত পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতিও লাগে। দুই মনোনীত পরিচালকের মধ্যে নোয়েল টাটা বিপক্ষে আর ভেণু শ্রীনিবাসন পক্ষে ভোট দেওয়ায় সেই শর্ত পূরণ হয়নি। চেয়ারম্যানের নির্ণায়ক ভোট দিয়েও এ ঘাটতি পূরণ হয় না বলে মনে করে ট্রাস্টস।

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পাল্টা যুক্তিটিও তুলে ধরেছে: একই অনুচ্ছেদে ভোট সমান হলে নির্ণায়ক ভোটের বিধান আছে, আর মনোনীত পরিচালকদের ১-১ বিভাজন ঠিক সেই পরিস্থিতি। ট্রাস্টসের পক্ষে লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি, আর চন্দ্রশেখরনকে পরামর্শ দিচ্ছেন সাবেক সলিসিটর জেনারেল হরিশ সালভে।

তালিকাভুক্তির প্রশ্ন

একই সভায় পর্ষদ টাটা সন্সকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর ছয় দিন আগে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মূল বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধন স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাটা সন্সের আবেদন নাকচ করে। ওই পথে তালিকাভুক্তির বাধ্যবাধকতা এড়াতে চেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

টাটা ট্রাস্টস বলছে, তারা তালিকাভুক্তিতে সম্মতি দেয়নি। প্রয়াত রতন টাটার নির্দেশনায় ২০২৪ সালের মার্চে টাটা সন্সকে অতালিকাভুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও মনে করিয়ে দিয়েছে তারা। বিকল্প হিসেবে নোয়েল টাটা টাটা সন্সের প্রায় ১৮.৪ শতাংশের মালিক শাপুরজি পালোনজি গ্রুপের একটি প্রস্তাব পর্ষদে তোলেন, যাতে মূলধন হ্রাস বা শেয়ার কিনে নেওয়ার মাধ্যমে অন্তত ২৫ হাজার কোটি রুপি সংগ্রহের কথা আছে। তবে গ্রুপটির চেয়ারম্যান শাপুরজি পালোনজি মিস্ত্রি তালিকাভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

মুম্বাইভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টর অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা অমিত ট্যান্ডন আমার দেশের প্রতিবেদনে বলেছেন, ভারতে নিয়ন্ত্রণকারী শেয়ারহোল্ডারের বিরুদ্ধে পর্ষদের এমন বিদ্রোহের নজির তার জানা নেই।