মিয়ানমারে পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়েছেন কক্সবাজারের জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও আলেমরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনেও সংকটের সমাধান না হওয়ায় বাংলাদেশ, বিশেষ করে কক্সবাজার বহুমুখী চাপে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদের ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘উদ্বাস্তু রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদায় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা আহ্বায়ক মাওলানা মুহাম্মদ মুসলিম।
আন্তর্জাতিক উদ্যোগের তাগিদ
প্রধান অতিথি কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, স্থায়ী সমাধান না আসায় কক্সবাজারের সমাজ, অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। টেকসই সমাধানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
প্রধান আলোচক হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও নাগরিক অধিকার হরণের অবসান ঘটাতে হবে। ভবিষ্যতে আবার বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি এড়াতে মিয়ানমারে তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ আশ্রয় দিলেও দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট দেশের ওপর ‘বহুমুখী চাপ’ তৈরি করছে।
অন্য বক্তারা বলেন, সংকটের কারণে কক্সবাজারের পরিবেশ, বনভূমি, স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, জনস্বাস্থ্য ও অবকাঠামোয় বাড়তি চাপ পড়ছে। ক্যাম্প ও আশপাশে মাদক পাচার, অপহরণ, মানবপাচার ও সহিংসতার ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদারের দাবিও ওঠে বৈঠকে। তাঁদের মতে, শুধু প্রত্যাবাসন নয়, ফেরার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তাও দিতে হবে।
বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মাওলানা ড. হারুন আজিজী নদভী। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আখতারুল আলম ও জেলা নেজামে ইসলাম পার্টির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নুরুল হক চকোরীসহ বিভিন্ন দল ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরাও বক্তব্য দেন।
প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। ২০১৭ সালের ঢলের পর থেকে তারা কক্সবাজারের ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে রয়েছে। ক্যাম্পের চাপ কমাতে ২০২১ সাল থেকে প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে।