রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

সাতক্ষীরাগামী লংমার্চফেরত বাস তালায় খাদে, পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা; নিহত ১, আহত অন্তত ১০

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কুমিরা বাজার মোড়ে এক মানসিক ভারসাম্যহীন পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়।

খুলনা থেকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের কর্মসূচি শেষে সাতক্ষীরায় ফেরার পথে একটি বাস সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় খাদে পড়ে গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কুমিরা বাজার মোড়ে ঘটা এ দুর্ঘটনায় এক পথচারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। বাসের যাত্রীদের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

নিহত পথচারীর নাম আব্দুল খালেক (৪৫)। তিনি তালার খলিশখালী ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘোনা ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ যাত্রীদের বহনকারী বাসটি সাতক্ষীরার দিকে ফিরছিল। কুমিরা বাজার মোড়ে পৌঁছালে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি হঠাৎ দৌড়ে বাসের সামনে চলে আসেন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে চালক স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে।

খবর পেয়ে তালা থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালায়। বাসের নিচে চাপা পড়া ও ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে মো. সম্রাট (২৫), মো. কামাল (৪৫), সাইফুল্লাহ, আবু তাহের ও কামরুল হাসানের নাম জানা গেছে। আরও চারজন যাত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, পথচারী হঠাৎ গাড়ির সামনে চলে এলে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টায় বাসটি খাদে পড়ে যায়; এ ঘটনায় তাঁরা অত্যন্ত মর্মাহত। নিহত ব্যক্তির শ্বশুর কেরামত আলী জানান, তাঁর জামাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং রাতে সবার অজান্তে রাস্তায় চলে এসেছিলেন।

পাটকেলঘাটা থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, খবর পেয়েই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ চালায়। বাসটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং সেটি খাদ থেকে তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।

এই দুর্ঘটনা নিয়ে অন্য কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্যও এসেছে। সেসব প্রতিবেদনে আহত নেতাকর্মীর সংখ্যা ৩০ বলা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল হিসেবে সাতক্ষীরার চারাবটলার কথা উল্লেখ আছে। আহতের সংখ্যা ও ঘটনাস্থলের বিষয়ে তথ্যের এই পার্থক্য স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।