কেরালার পশ্চিমঘাট অঞ্চলে সাম্প্রতিক গবেষণায় দুই নতুন প্রজাতির মিঠা পানির কাঁকড়া আবিষ্কার করা হয়েছে। এরা দুইটি ভিন্ন প্রজাতি হলেও একই পরিবারের (Family)—Gecarcinucidae।
গবেষকরা জানিয়েছেন, নতুন প্রজাতিগুলোর মধ্যে একটির নাম Kasargodia sheebae, যা কাসরগোড জেলার রানিপুরম হিল স্টেশনে পাওয়া গেছে। অপরটি Pilarta vaman নামে পরিচিত, যা পাঠ anamthitta জেলার গাভির ছোট পাহাড়ি ঝরনায় সংগ্রহ করা হয়েছে।
Kasargodia কা(সরগোডিয়া) নামক নতুন গণের (Genus) এর নামকরণ হয়েছে কাসরগোড জেলার নাম থেকে, আর প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে গবেষক স্মৃতির স্ত্রীর নামে। এই কাঁকড়াটির শরীর ঝালমরিচের মতো কালো দাগ যুক্ত বাদামী-কমলা রঙের, পা ও পিঁপড়ার মতো দেহাংশও কালো দাগবিশিষ্ট কমলা রঙের। এটি ছোট পাহাড়ি নালায় বাস করে।
অন্যদিকে, Pilarta vaman নামটি হিন্দু পুরাণের বিষ্ণুর অবতার ‘বামন’ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে এর ছোট আকারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই কাঁকড়ার শরীর তুলনামূলক বর্গাকৃতি। গবেষণায় দেখা গেছে, গাভির পাহাড়ি ঝরনায় মাত্র দুইটি specimen পাওয়া গেছে, তাই এটি বিরল প্রজাতি বলে মনে করা হচ্ছে।
কেরালার পশ্চিমঘাট অঞ্চলে মিঠা পানির কাঁকড়ার এতো বেশি এন্ডেমিক প্রজাতি থাকার পেছনে এসব কাঁকড়ার গোপন জীবনযাপন ও সন্ধ্যাকালীন আবাসনের কারণ আছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, “তারা মূলত রাতের বেলা সক্রিয় এবং গভীর গর্তে লুকিয়ে থাকে, ফলে সংগ্রহ করা কঠিন।” এছাড়াও, পশ্চিমঘাটের কেরালা অংশের মিঠা পানির কাঁকড়ার প্রায় ৭০% প্রজাতি স্থানীয় (এন্ডেমিক), যা অন্যান্য প্রাণী গোষ্ঠীর তুলনায় অনেক বেশি। তবে পর্যটকদের আগমন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তন এই প্রজাতির জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।
এই আবিষ্কারগুলি Journal of Crustacean Biology এবং Zootaxa জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা দলের মধ্যে আছেন স্মৃতিরাজ, এ.বিজু কুমার (কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং পিটার কে.এল. এনজি (ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর)।
গবেষণা প্রব্ধের লিংক: