রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে বৃহস্পতিবার পর্যটক সরিয়ে নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, প্রাথমিক তথ্যে অবরোধ ও সহিংসতা ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে জানা গেছে। ইউপিডিএফ গোলাগুলির খবর অস্বীকার করে উল্টো নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে একতরফা গুলির অভিযোগ এনেছে। শুক্রবার সকালে সাজেক ছিল পর্যটকশূন্য, সড়কে যান চলাচলও বন্ধ ছিল বলে দৈনিক ইনকিলাব জানিয়েছে।
আইএসপিআরের ভাষ্য
সমকাল ও নয়া দিগন্তে প্রকাশিত আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সকাল ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী যানবাহন আটকে দেন। আলোচনার মধ্যেই পৌনে ১১টার দিকে তাঁরা নিরাপত্তা বাহিনী ও পর্যটকদের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন; বাহিনী লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে। আইএসপিআরের দাবি, বেলা ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০টি গুলি ছোড়েন এবং সেনা টহল দল পাল্টা গুলি চালালে তাঁরা সরে যান।
বিজ্ঞপ্তিতে স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে অবরোধে নামানো ও ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে চলমান অভিযানের কারণে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের একটি অংশ পর্যটন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
পুলিশ সুপার রকিব রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোনো পর্যটক আহত হননি; তবে অবরোধকারীদের ইটের আঘাতে সেনাবাহিনীর চার-পাঁচজন ও পুলিশের দুজন সদস্য আহত হয়েছেন। গোলাগুলিতে কারও নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে ইনকিলাব জানিয়েছে।
অবরোধকারী ও ইউপিডিএফের দাবি
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি বাবুধন চাকমা সমকালকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিনা উসকানিতে লাঠিপেটা করেছে, এতে ৫৭ জন অবরোধকারী আহত হয়েছেন। ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বিবৃতিতে দাবি করেন, সাজেকে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলি হয়নি; শান্তিপূর্ণ অবরোধ বানচাল করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাই একতরফা গুলি করেছেন। নয়া দিগন্ত সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমার বরাতেও একই দাবি প্রকাশ করেছে। দুই পক্ষের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
জেএসএসের (সন্তু লারমা) ‘সশস্ত্র’ সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবিতে ১১ অক্টোবর থেকে কয়েক দফায় অবরোধ করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন; বুধবার তারা তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করে। নিরাপত্তার কারণে জেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে।
শুক্রবারের পরিস্থিতি
ইনকিলাবের শুক্রবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবরোধে সাজেক-বাঘাইহাট-মাচালং-উজোবাজার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বিপাকে। সাজেক থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন সমকালকে বলেছেন, পরিস্থিতি থমথমে, বাহিনী সতর্ক আছে। নয়া দিগন্ত লিখেছে, অবরোধে লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ভুয়া গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে না দৌড়িয়ে’ সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সাজেক নিয়ে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সাজেকের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ ডেকেছে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ।