একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে রান্না করে সহযোগিতা করেছেন মুক্তিযোদ্ধাদের। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে লঙ্গরখানায় রুটি ও খিচুড়ি রান্না করে খাইয়েছেন ক্ষুধার্ত মানুষকে। অথচ সেই ফরিতন বেওয়া (৯০) আজ নিজেই অনাহার, অসুস্থতা ও অসহায়ত্বের সঙ্গে লড়ছেন। কুড়িগ্রামের রৌমারী সরকারি হেলিপ্যাডের পাশে একটি ভাঙাচোরা ছাপরা ঘরই এখন তাঁর আশ্রয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন মাস ধরে চলাফেরা করতে পারছেন না তিনি। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা, যাদুরচর, নতুনবন্দর, মাদ্রাসা ও তৎকালীন সার্কেল অফিস এলাকায় লঙ্গরখানা চালু ছিল। সেখানে দিনের পর দিন রুটি ও খিচুড়ি রান্না করে ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় রৌমারীর একটি হাইস্কুল মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণকালেও রান্নার কাজে সহযোগিতা করেছেন তিনি।
স্বামী আব্দুল হামিদের মৃত্যুর পর দুই মেয়েকে নিয়ে এত দিন জীবন টেনে এনেছেন ফরিতন বেওয়া। বড় মেয়ে মারা গেছেন, ছোট মেয়ে থাকেন স্বামীর বাড়িতে। প্রায় ৪০ বছর দিনমজুরি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি। এখন অসুস্থতার কারণে সেই সামর্থ্যও নেই।
তাঁর নিজস্ব জমি বা নিরাপদ বাসস্থান নেই। বৃষ্টিতে ঘরে পানি পড়ে, ঝড়ের রাত কাটে আতঙ্কে। নিয়মিত চিকিৎসা ও দেখভালের কোনো ব্যবস্থাও নেই। দীর্ঘ জীবনের ত্যাগের বিনিময়ে কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মেলেনি বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়রা ফরিতন বেওয়ার চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, যে হাত একদিন ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছিল, আজ সেই হাতই সামান্য সহায়তার অপেক্ষায় আছে।