স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী এক গৃহবধূ। নির্যাতনের কথা জানিয়ে মা-বাবার কাছে সাহায্য চান তিনি। একপর্যায়ে ভিডিও কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়ের বাসায় খোঁজ নিতে গিয়ে পরিবার জানতে পারে, তিনি আর বেঁচে নেই। পরিবারের সদস্যরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর মণিপুরিপাড়ার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন তাঁর বাবা।
গৃহবধূর চাচা বলেন, এক বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে হয়েছিল। স্বামী কোনো কাজ করতেন না এবং বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতেন। পরিবার আগে কয়েকবার টাকা দিয়েছিল। টাকা চাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো, মারধরও করা হতো। একবার মারধরের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল, কিন্তু এসব তখন পরিবারকে জানানো হয়নি।
চাচার বর্ণনায়, মঙ্গলবার আবার টাকা চাওয়া নিয়ে মারধর করা হয়। শ্বশুরবাড়ির একজন মারধরের দৃশ্য ধারণ করে গৃহবধূর পরিবারকে পাঠান। মারধর সহ্য করতে না পেরে রাত ১২টার দিকে তিনি বাবাকে ভিডিও কল করেন। কল বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মা-বাবা ওই বাসার উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসার সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। শ্বশুরকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সময় তাঁরা মেয়েকে ডাকতে থাকেন; পরে নার্সরা জানান, তিনি মারা গেছেন।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুজ্জামান বলেন, যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করতেন স্বামী। গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাসপাতাল থেকে স্বামীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।
স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর ব্যবসা ও মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য স্বামী চাপ দিতেন। বাবা কয়েকবার টাকা দিলেও সেই টাকায় তিনি মাদক সেবন করতেন বলে পরিবারের দাবি; তাই টাকা দেওয়া বন্ধ করা হলে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বামীর পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি।