শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

মিরপুর ও উত্তরার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনে বিকল্প জায়গা খুঁজছে ডিএনসিসি, শাহ আলী কাঁচাবাজারের আড়ত কমপ্লেক্স বিবেচনায়

ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্দিষ্ট ফি নিয়ে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা আছে, তবে রাস্তায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না।

রাজধানীর মিরপুর-১, মিরপুর-১০ নম্বর সেকশন ও উত্তরায় উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উপযুক্ত জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হকারদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়মিত ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, হকারদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করা হবে, যেখানে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ব্যবসা চলবে। তবে কোনো অবস্থাতেই সড়ক দখল করে ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য কয়েকটি জায়গা নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্রথমে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জমি খোঁজা হচ্ছে; প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে জায়গা ঠিক করা হবে।

প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, মিরপুরের হকারদের জন্য শাহ আলী কাঁচাবাজারের আড়ত কমপ্লেক্সের একটি জায়গা বিবেচনায় আছে। বুধবারের উচ্ছেদ অভিযানের সময় আড়ত ব্যবসায়ীদের একজন ওই জায়গা ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকার হকারদের সুবিধার কথা ভেবে মাঝামাঝি কোনো জায়গা খোঁজা হচ্ছে এবং এ জন্য দিয়াবাড়ির একটি জায়গাও পরিদর্শনে যাওয়া হতে পারে। আগামী সপ্তাহে জায়গা দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শফিকুল ইসলাম খান জানান, জায়গাটি উপযুক্ত হলে আপাতত সেখানে হলিডে মার্কেট করার কথা ভাবা হচ্ছে, যেখানে ৩০০ থেকে ৫০০ জনকে জায়গা দেওয়া সম্ভব কি না, তা দেখা হবে। সপ্তাহে শুধু দুই দিন বসার সুযোগ দিলে হকারদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হতে পারে বলে নির্ধারিত জায়গায় বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত নিয়মিত ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। প্রয়োজনে সেখানে সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হবে।

চাঁদাবাজি ঠেকাতে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ব্যবসা পরিচালনার কথা বলেন প্রশাসক। হকারদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি, উদাহরণ হিসেবে ৫০ টাকা, নেওয়া হতে পারে; বিনিময়ে তাঁদের তৈরি বর্জ্য করপোরেশন পরিষ্কার করবে। তাঁর কাছে প্রায় ৮০০ হকারের একটি তালিকা আছে, যা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে সংশোধন করা হতে পারে। এর আগে মিরপুর-১০ এলাকার হকারদের গাবতলীর দিকে করপোরেশনের নির্ধারিত একটি জায়গায় যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের অনেকে সেখানে যাননি। তাঁদের আবার প্রস্তাব দেওয়া হবে এবং মাইকিং করে ও আলোচনায় বসে বিষয়টি জানানো হবে বলে প্রশাসক জানান।