যেসব শিক্ষক নোট ও গাইড বইয়ে নিজেরা প্রশ্ন-উত্তর লিখে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সম্মানী নিতেন, তাঁদের চিহ্নিত করা গেছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের একটি জরিপে দেখা গেছে, বোর্ড পরীক্ষার খাতা দেখায় শিক্ষকেরা যতটা যত্নশীল, তার চেয়ে বেশি মনোযোগ দেন গাইড-নোটের কাজে। তাঁর দাবি, এ কারণেই এসএসসিতে যত শিক্ষার্থী ফেল করেছে, তার চেয়ে বেশি খাতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এবার ১৯ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল, পাস করেছে ১২ লাখ। খাতা পুনর্নিরীক্ষার জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ১৩ লাখ; পরে অনেকের ফলাফল বদলেছে। পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে এবং অনেকে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
নোট ও গাইড ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সতর্ক ও সাবধান হয়ে যান। সামনে আপনাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।’ তিনি জানান, নিজে গবেষণা করে বের করেছেন কোন কোন শিক্ষকের প্রশ্ন গাইড বইয়ে পাওয়া যায়; ওই শিক্ষকদের আর প্রশ্ন করতে দেওয়া হবে না। এখন সব ব্যবস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হয়ে যাওয়ায় প্রকাশকদের তড়িঘড়ি করে লাখ লাখ কপি না ছাপার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এবার ‘ধরা খাবেন’।
এসএসসির ফলাফল ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে খাতা পুনর্নিরীক্ষায় ফল বদলের বিষয়টি আলোচনায় আছে। মন্ত্রীর এই বক্তব্য সেই প্রেক্ষাপটেই এল। তবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেননি।