শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

সিরাজগঞ্জে নদী খননের বালু সরানোর নামে কেটে নেওয়া হচ্ছে ফসলি জমি, ভাঙনের শঙ্কায় চরের মানুষ

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ ও উল্লাপাড়ায় ড্রেজিংয়ের স্তূপকৃত বালু অপসারণের নিলামের শর্ত ভেঙে ৫০ থেকে ৭০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে।

সিরাজগঞ্জে নদী খননের স্তূপকৃত বালু অপসারণের নামে প্রকাশ্যে কৃষকের ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিলামের শর্ত ভেঙে ড্রেজার দিয়ে ৫০ থেকে ৭০ ফুট গভীর করে মাটি ও বালু তোলা হচ্ছে। এতে একদিকে আবাদি জমি হারিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বসতভিটা ও জনবসতি।

সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলার নদ-নদীর নাব্য বাড়ানো, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙন রোধে ‘বাঙ্গালী-করতোয়া-ফুলজোর-হুরাসাগর নদী সিস্টেম ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্প’ নেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে চলা এই প্রকল্পে ড্রেজিংয়ের বালু নদীর পাড়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও খাস জমিতে স্তূপ করে রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী স্তূপকৃত বালুর ৫০ শতাংশ জমির মালিকদের, বাকি অর্ধেক রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রীয় মালিকানার বালু ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন না করে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়ার শর্তে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে নিলাম করা হয়।

সরেজমিনে কামারখন্দ ও উল্লাপাড়া উপজেলার ঝাটিবেলাই, আলোকদিয়া ও বড়হর এলাকায় নদীর পাড়জুড়ে বিশাল গর্ত দেখা যায়। ড্রেজারের পাইপ দিয়ে অবিরাম বালু তোলা হচ্ছে। একসময় যেখানে ফসলের মাঠ ছিল, এখন সেখানে গভীর জলরাশি। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিলামের শর্ত অনুযায়ী স্তূপের বালু সরানোর কথা থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র নতুন করে ড্রেজিং করে নদীর পাড় ও কৃষিজমি কেটে নিচ্ছে। সেই বালু নিয়ে দিনরাত ফুলজোর নদীতে ভলগেট ও বাল্কহেড নৌযান চলাচল করছে। ঝাটিবেলাই, চর নুরনগর, আলোকদিয়া ও বড়হরের চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে আছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন বলেন, ‘এত গভীরভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে যে আমাদের বেঁচে থাকতে সেখানে আর কোনোদিন চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। থানায় অভিযোগ দিয়েও লাভ হয় না, প্রশাসন কয়েকদিন বন্ধ রাখলে পরে আবার কাটা শুরু হয়।’ আরেক বাসিন্দা শাহ আলম জানান, মাটি কাটার প্রতিবাদ করলে উল্টো ভয় দেখানো হয় এবং রাতের অন্ধকারে কাটার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া ও নিয়মভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণে ওই তিন স্থানের বালু অপসারণের নিলাম অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে সেখান থেকে নতুন করে বালু বা মাটি তোলার আইনি সুযোগ নেই। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, অবৈধভাবে বালু বা মাটি তোলার খবর পেলেই উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান চালানো হচ্ছে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত আছে।

স্থানীয় সচেতন মহল অবৈধ খনন স্থায়ীভাবে বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত জমি রক্ষা এবং জড়িত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।