বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার সকালে তৈরি সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ও তাঁদের দেখানো মতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের খালাতো ভাই জহির হাসান উদ্ধার করা মরদেহটি শনাক্ত করেন। মরদেহের উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, মুখ ও চোখ বন্ধ ছিল এবং নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেছে। দুই হাত মাথার সামনের দিকে বাঁকানো অবস্থায় ছিল, তবে হাতের মুষ্টি খোলা পেয়েছেন সুরতহাল প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুক, পেট ও পিঠ স্বাভাবিক ছিল এবং দুই পায়েও অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে পেট ফোলা অবস্থায় দেখা গেছে।
এর আগে বুধবার বিকেলে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা। নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
এদিকে রাজশাহীর চারঘাটের সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্তের আগে তিনি এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে চান না। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘একটা প্রাথমিক তদন্ত হতে হবে আর লাশের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। তারপর আমরা সব বিষয় জেনে কথা বলব।’