রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারানো মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারকে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এই বাংলাদেশি আলেম। পরিবারের স্থায়ী আবাসন ও সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
যেভাবে প্রাণ গেল নাসরুল্লাহর
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা নাসরুল্লাহ ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলার দলনেতা ছিলেন। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী মুহতামিম ছিলেন। তাঁর তিন সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স সাত, পাঁচ ও দুই বছর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ডেইলি স্টার জানায়, গত ১০ অক্টোবর সৌদি সময় বেলা আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। কাফেলাটি তখন মক্কাগামী ট্রানজিট ফ্লাইটের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিল। গালফ নিউজ জানিয়েছে, নিহত হওয়ার সময় তাঁর পরনে ছিল ইহরামের কাপড়।
গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ প্রথম দফায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হওয়ার কথা জানায়। ইয়েমেনে সক্রিয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল মালিকি এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছেন। ওই হামলায় বগুড়ার আরেক বাংলাদেশি মো. শাহেদ আহমেদও প্রাণ হারান। নাসরুল্লাহর কাফেলার আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।
পরিবারের জন্য মন্ত্রীর আশ্বাস
মন্ত্রণালয় জানায়, হামলার সময় মন্ত্রী সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি কাফেলার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
১৩ অক্টোবর মন্ত্রীর পক্ষে মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বদরপুরে নাসরুল্লাহর বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানায়। মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসন ও সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় তখন। পরে পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে মন্ত্রী জানান, মরদেহ মদিনার জান্নাতুল বাকিতে দাফন অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে। পরিবারটিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন। মরদেহ শেষ পর্যন্ত কোথায় দাফন হবে, বিজ্ঞপ্তিতে তা চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি।
দেশে ফিরলেন ৩৩ জন
হামলার শিকার কাফেলার ৩৩ জন সদস্য মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় যাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে যাওয়ায় তাঁদের খাবার ও নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, ফেরার টিকিটও নিশ্চিত করা হয়। ঢাকায় পৌঁছানোর পর নিজ নিজ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও ছিল। দেশে ফেরা যাত্রীরা এ সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।