রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও প্রায় এক মাস ধরে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সেবা কার্যত বন্ধ। এতে শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা দেওয়া ও দাপ্তরিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংযোগ ঠিক না হলে প্রাথমিক শিক্ষার ডিজিটাল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকেরা।
শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)-১ম সংশোধিত’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ টেলিকম ও রাজশাহীর এশিয়া প্যাসিফিক কমিউনিকেশন লিমিটেড (এপিসি) গোদাগাড়ীর ১৬৫টি বিদ্যালয়ে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস গতির সংযোগ দেয়। শুরুতে কিছুদিন সেবা ভালো থাকলেও এখন তা প্রায় অচল।
মহিশালবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, ইন্টারনেট চালুর পর দাপ্তরিক কাজের গতি বেড়েছিল। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে সংযোগ থাকলেও ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। প্রতিদিন তথ্য আদান-প্রদান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা নেওয়া এবং হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা পাঠাতে ইন্টারনেট লাগে; বাধ্য হয়ে তাঁরা নিজেদের মোবাইল ডাটা ব্যবহার করছেন। শেখেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব হোসেন জানান, শুরুতে সেবা ভালো থাকলেও পরে গতি কমে যায় ও ঘন ঘন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে থাকে।
একই অভিযোগ করেছেন গোদাগাড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলিপুর, ঘনশ্যামপুর, সারেংপুর, হরিণবিস্কা ও সুলতানগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। অনেক বিদ্যালয় বাড়তি টাকা খরচ করে স্থানীয়ভাবে বিকল্প সংযোগ নিয়ে কাজ চালাচ্ছে।
এশিয়া প্যাসিফিক কমিউনিকেশনের নেটওয়ার্ক অপারেশন ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম বলেন, ক্যাবল চুরি ও সার্ভার জটিলতার কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকার দাবি সঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন মুন সুলতানা জানান, বিভিন্ন স্কুল থেকে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ এসেছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কয়েক দিনের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ইডিসি প্রকল্পের আওতায় থাকা ৮৯টি বিদ্যালয়ে এক মাস ধরে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে; বাকি ৭৫টি স্কুলে গ্রামীণ টেলিকমের সংযোগ সচল আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগে কারিগরি ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা করছেন।