রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিরোধ গড়িয়েছে থানা-পুলিশ পর্যন্ত। নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে উপজেলা প্রশাসন। তালা দেওয়ার প্রতিবাদে পরদিন মিছিল-সমাবেশ করেছে বিএনপি।
দুই ঘণ্টা তালাবদ্ধ প্রশাসনিক ভবন
সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এনসিপির গোদাগাড়ী উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীরা ইউএনও ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা বাইরে থেকে ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা এই ঘেরাও কর্মসূচিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা লোকজন ভেতরে আটকা পড়েন। কর্মসূচিতে স্থানীয় জামায়াত নেতা ও একজন ডিলারশিপপ্রত্যাশীও অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপজেলা সার ডিলার নিয়োগ কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও সরকারি নীতিমালা না মেনে দলীয় প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির ভিত্তিতে ডিলার বাছাই করেছেন। রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান দাবি করেন, নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের বেশির ভাগই বিএনপির বিভিন্ন পদে আছেন, কারও কারও সারের দোকান বা গুদামও নেই। তিনি বলেন, এই নিয়োগ তাঁরা মেনে নেবেন না এবং ইউএনওকে জনগণের সামনে এসে অভিযোগের জবাব দিতে হবে।
রাজশাহী জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব আব্দুল হামিদ বাবলুও ঘেরাও কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউএনও নিয়ম মেনে ডিলার নিয়োগ দেননি; তিনি নিরপেক্ষ ও দলীয়করণমুক্ত নিয়োগ দাবি করেন। দীর্ঘ সময়েও ইউএনও কথা বলতে বেরিয়ে না আসায় আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও তাঁরা ঘোষণা দেন।
সেদিন মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আসায় তিনি প্রটোকল দায়িত্বে আছেন, পরে কথা বলবেন।
প্রশাসনের মামলা, বিএনপির পাল্টা কর্মসূচি
ঘটনার দিন রাতেই উপজেলা প্রশাসনের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা করেন।
পরদিন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়, পরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হয়। বক্তারা ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রশাসনিক কাজ বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়; তাঁরা জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সমাবেশে জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা তৈরির অভিযোগও তোলা হয়; এ বিষয়ে দল দুটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সত্য কি না এবং তালা দেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
আগেও সার মজুতে সাজা
বরেন্দ্র অঞ্চলের এই উপজেলায় সার নিয়ে অনিয়ম নতুন নয়। গত আগস্টে দেওপাড়া ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর গোয়ালঘর থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ১৩২ বস্তা সার জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেপ্টেম্বরে পৌর এলাকার এক ডিলারের গুদামে ৮১৭ বস্তা সার পাওয়ায় তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার মজুত বা বাড়তি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলে তখন জানিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।