বরিশাল নগরীর দপদপিয়া এলাকায় কীর্তনখোলা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় বালুবোঝাই বাল্কহেড ও একটি লোড ড্রেজার জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বালু উত্তোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়। বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা সুলতানার নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়।
সূত্র জানায়, দপদপিয়া সেতুর নিচে বালু উত্তোলন হচ্ছে—এ খবর পেয়ে ইউএনও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের বরিশাল দক্ষিণ জোনের একটি দলকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে চালকেরা জলযানগুলো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও কোস্টগার্ড সদস্যদের তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়। জব্দ জলযানের মধ্যে ‘রিফাজ জাহান ইকরা-১’ নামের একটি লোড ড্রেজার এবং প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ঘনফুট বালুবোঝাই বাল্কহেড রয়েছে। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাল্কহেড চালক বাচ্চু এবং শ্রমিক আব্দুল জলিল, লিটন ও হুমায়ুন। আটক ব্যক্তিরা জানান, অভিযানের সময় আরও কয়েকজন শ্রমিক পালিয়ে গেছেন।
জব্দ সরঞ্জামের মালিক নগরীর চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা আল আমিন। এর আগে ২৬ অক্টোবরও একই স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁর মালিকানাধীন দুটি বাল্কহেড ও একটি ড্রেজার জব্দ করেছিল প্রশাসন। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবে জরিমানা আদায়ের পর জব্দ করা বাল্কহেড ও ড্রেজার মালিকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। এর ১১ দিনের মাথায় একই সরঞ্জাম আবার সেতুর নিচে বালু তোলার সময় জব্দ হলো।
বরিশালের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ২০৮ কোটি টাকায় নির্মিত দপদপিয়া সেতু। সেতুর নিচে নিয়মিত ও অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় পিলার ও ভিত্তির আশপাশের মাটি সরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ইউএনও ফরিদা সুলতানা জানান, বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করেছেন। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।