বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

চলতি অর্থবছরে কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা, প্রথম দুই মাসে বিতরণ ১১.৪৩ শতাংশ

আগের অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫৩.৮৫ শতাংশ বেশি লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; বাকি ১০ মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বিতরণ করতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এটি ৫৩.৮৫ শতাংশ বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ও পল্লী ঋণ পরিস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে, অর্থাৎ জুলাই-আগস্টে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা বার্ষিক লক্ষ্যের ১১.৪৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ ছিল ৪ হাজার ৮২৬ কোটি ৩ লাখ টাকা; সেই হিসাবে বিতরণ বেড়েছে ৪২.১০ শতাংশ। আগের অর্থবছরে মোট প্রকৃত বিতরণ হয়েছিল ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যার তুলনায় এবারের লক্ষ্য প্রায় ৪০.০৮ শতাংশ বেশি।

প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও বার্ষিক লক্ষ্য অর্জনের হিসাব কঠিন। বছরের বাকি ১০ মাসে বিতরণ করতে হবে ৫৩ হাজার ১৪২ কোটি ৫ লাখ টাকা; অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা, যা প্রথম দুই মাসের মাসিক গড়ের চেয়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি।

লক্ষ্যমাত্রার সবচেয়ে বড় অংশের দায়িত্ব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওপর। মোট লক্ষ্যের ৬১.৫৫ শতাংশ বা ৩৬ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা বিতরণ করতে হবে এসব ব্যাংককে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের লক্ষ্য ৬ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা, বিশেষায়িত ব্যাংকের ১৩ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা এবং বিদেশি ব্যাংকের ২ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে কৃষিঋণ বিতরণ ও আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণের স্থিতি বৃদ্ধি ও বিপুল বকেয়াকে গ্রামীণ অর্থায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণের কার্যক্রম বাড়লেও ১১টি প্রধান ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অনাদায়ী ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৯৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।