২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা নিয়ে আলোচনার পর সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইটিতে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকবে, কিন্তু কোনো প্রতীক বা আইকন থাকবে না। একই দিন বোর্ডে প্রেষণে কর্মরত একজন কর্মকর্তাকে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান মুঠোফোনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল। এনসিটিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, যেসব বই মাঠপর্যায়ে চলে গেছে, সেগুলোর ওই পৃষ্ঠার ওপর নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা বসিয়ে দেওয়া হবে। এ পর্যায়ে পুরো বই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কারণ তাতে বাড়তি খরচ ও সময় লাগবে। শনিবার প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এনসিটিবি। কয়েকজন প্রেস মালিক জানিয়েছেন, বইয়ের ওই পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো আরেকটি পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে তাঁরাও সম্মত হয়েছেন।
এনসিটিবি সূত্র অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে, যার বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে। মুদ্রণমালিকেরা জানিয়েছেন, বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে।
বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। নিচ থেকে ওপরের দিকে এতে চারটি স্তর রয়েছে—উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। উপাত্তের স্তরে ছিল ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো প্রতীক, জ্ঞানের স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি এবং সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ছিল দাঁড়িপাল্লা।
এদিকে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে মু. আব্দুল্লাহ আল জোবায়েরকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। তিনি এনসিটিবিতে প্রেষণে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছিলেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তারা আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হবেন এবং জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। বদলির কারণ হিসেবে অন্য কিছু প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।