বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় এইচএসসিতে ৫৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য, দুটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ১০ ও ৮ শতাংশ

চুয়াডাঙ্গা জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ৪৪ দশমিক ০৩ শতাংশ; ৭ হাজার ৯৩৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য ৪ হাজার ৪৪০ জন।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রকাশিত ফলে এবার ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। জেলার ৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৭ হাজার ৯৩৩ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪০ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। পাস করেছেন ৩ হাজার ৪৯৩ জন। জেলায় সম্মিলিত পাসের হার ৪৪ দশমিক ০৩ শতাংশ।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, জেলায় কলেজের পাসের হার ৪৪ দশমিক ২৩ শতাংশ, মাদরাসার ৫২ দশমিক ০১ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষার ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সবচেয়ে খারাপ ফল হয়েছে আলমডাঙ্গার মুন্সিগঞ্জ নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজ এবং চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। প্রথমটিতে পাসের হার ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ, আর দ্বিতীয়টিতে মাত্র ৮ শতাংশ।

নিগার সিদ্দিক ডিগ্রি কলেজে এবার ২০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ২২ জন; অকৃতকার্য হয়েছেন ১৮৭ জন। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নেই, ৩৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন এবং ল্যাব ও শ্রেণিকক্ষ নিয়মিত খোলা থাকে। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়।

কলেজের শিক্ষকদের ভাষ্য, অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে না আসায় পাঠদান ব্যাহত হয়। তাঁদের মতে, কৃষক পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী পারিবারিক ও আর্থিক সংকটে বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়ে পড়ায় পড়াশোনায় সময় দিতে পারছে না। ফরম পূরণ করেও প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। কলেজের প্রভাষক খাইরুল ইসলাম বলেন, ফল বিপর্যয়ের কারণ ছেলেমেয়েরা আগের মতো পড়াশোনা করে না। বইয়ের সঙ্গে তাদের যে সম্পর্ক থাকা দরকার, তা কমে গেছে; শিক্ষার্থীদের আবার পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে হবে।

শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা ফল বিপর্যয়ের পেছনে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি, পড়াশোনায় অনীহা, শিক্ষক সংকট, কোচিংনির্ভরতা এবং পাঠদানের দুর্বলতাকে দায়ী করছেন।