শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

আগাম শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি, তবে টমেটো-কাঁচামরিচ-গাজরের দাম চড়া; মাছ-মাংসে চাপ অব্যাহত

উত্তরা ও বাড্ডার বাজারে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার দাম কমলেও ইলিশ, গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো স্বস্তি নেই।

শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার মতো মৌসুমি সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। তবে টমেটো, কাঁচামরিচ, গাজর ও গোল বেগুনের দাম এখনো চড়া। মাছ ও মাংসের বাজারে তেমন পরিবর্তন না থাকায় ক্রেতাদের নিত্যদিনের খাদ্যব্যয়ে চাপ কমছে না। শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা ও বাড্ডা এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, মুলা ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকা কেজি। আকারভেদে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সাধারণ বেগুন কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৭০ টাকা হলেও গোল বেগুনে গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকা। টমেটো ও কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে, গাজর ১৪০ টাকায়। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ টাকা কেজি।

উত্তরার আজমপুর সমবায় মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আরিফ জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বেশ কিছু পণ্যের দাম কমেছে। একই বাজারের বিক্রেতা সোহাগ মিয়া বলেন, এখনো সব ধরনের শীতকালীন সবজি বাজারে আসেনি; সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে।

মাছের বাজারে পরিস্থিতি প্রায় অপরিবর্তিত। রুই ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে ইলিশ ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা কেজি; কোনো কোনো বাজারে বড় ইলিশের দাম ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তির খবর নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ৩৩০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি। আগের সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ৫ নভেম্বরের খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, ফার্মের ডিম, ছোলা, সুগন্ধি পোলাও চাল ও আমদানি করা আদার দাম কমেছে। অন্যদিকে প্যাকেট ময়দা, খোলা পাম তেল ও চিনির দাম কিছুটা বেড়েছে। বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের মতোই আছে।