মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের তিন বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, দুই মামলায় দুজন গ্রেপ্তার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননামূলক ভিডিও পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে হামলার ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা নিয়েছে; এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননামূলক ভিডিও পোস্টের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুটি পৃথক মামলায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননামূলক একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে পীরগঞ্জে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সোমবার রাতে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির বাড়িতে একদল লোক যায়। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের তিনটি পরিবারের বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়। ঘরের আসবাব তছনছ, দুটি টেলিভিশন ভাঙচুর এবং রান্নাঘর ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত একজন জানান, সন্ধ্যায় একদল লোক এসে তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং তিনটি ছাগল ও ঘরের আসবাব লুট করে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আরেকজন বলেন, মাগরিবের আজানের পরের ঘটনা; তখন বিদ্যুৎ ছিল না, অন্ধকারে হঠাৎ একদল লোক হইচই করে বাড়িতে হামলা চালায়, তাঁরা দৌড়ে পালিয়ে যান।

হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার গুজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মকিমপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম দফাদার বাদী হয়ে রাতে আরেকটি মামলা করেন। এতে এক যুবককে আসামি করা হয়েছে; সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার পর সোমবার রাতে রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে যথাযথ পদক্ষেপের আশ্বাস দেন।

পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, আইন হাতে নিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করা বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যারাই এ ঘটনা ঘটাক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ যাতে অপ্রীতিকর কিছু ঘটাতে না পারে, সে জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পীরগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, দুই মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।