শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের ৫ জেলায় ১০০ জনের বেশি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত, গবাদিপশু থেকে ছড়াচ্ছে রোগ

গত দুই মাসে গাইবান্ধা, মেহেরপুর, রংপুর, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়ায় অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়েছে।

দেশের কয়েকটি অঞ্চলে অ্যানথ্রাক্স রোগ আবার দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, মেহেরপুরের গাংনী, রংপুরের পীরগাছা এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুরে নতুন করে অ্যানথ্রাক্স আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। গত দুই মাসে পাঁচটি জেলায় মোট ১০০ জনের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অ্যানথ্রাক্স একটি জুনোটিক রোগ, যা ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়ে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়ার স্পোর মাটিতে থাকতে পারে। গরু ও মহিষের মতো তৃণভোজী প্রাণীরা ঘাস বা ঘাসজাতীয় খাবার খাওয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে। পরে সংক্রমিত গবাদিপশু থেকে এই রোগ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ বা হঠাৎ মৃত পশুর চামড়া, লোম অথবা মাংস স্পর্শ করার মাধ্যমে সাধারণত অ্যানথ্রাক্স ছড়ায়। আক্রান্ত পশুর মাংস ভালোভাবে রান্না না হলে অথবা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার স্পোর শরীরে প্রবেশ করলেও অ্যানথ্রাক্স হতে পারে। তবে এই রোগ সাধারণত সরাসরি একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায় না। ত্বকের অ্যানথ্রাক্স প্রথম দিকে পোকামাকড়ের কামড়ের মতো ফুলে যাওয়া ক্ষত হিসেবে দেখা দিতে পারে। পরে ক্ষতটির মাঝখানে কালো দাগ তৈরি হতে পারে। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে জ্বর, বুকে ব্যথা ও তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ কারণে হঠাৎ মৃত বা অসুস্থ পশুর মাংস ও চামড়া ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। খালি হাতে এমন পশু স্পর্শ না করে দ্রুত স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। জ্বর, অস্বাভাবিক ক্ষত বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।