বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃত্যু ১,৪০০ ছাড়াল, আহত ৩ হাজারের বেশি

পুরো পরিবার নিশ্চিহ্ন, ভেঙে পড়েছে ৫ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি; সহায়তা চাইছে দুর্গতরা

আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প
ছবি: আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১,৪১১ জনে। আহত হয়েছেন আরও ৩,০০০ এর বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়েছে ৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দা ও তালেবান সরকারের ত্রাণকর্মীরা উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তবে আন্তর্জাতিক সহায়তার দাবি জোরদার হচ্ছে।

আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। তালেবান সরকারের উপ-প্রবক্তা হামদুল্লাহ ফিত্রাত রবিবার এক বিবৃতিতে জানান, ভূমিকম্পে সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ১,৪১১ জন নিহত ও ৩,১২৪ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া অন্তত ৫,৪১২টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নুরগাল, সুকি, চাপা দারা, পাচ দারা, ওয়াতাপুর ও প্রাদেশিক রাজধানী আসাদাবাদ। এসব এলাকায় এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। যেখানে হেলিকপ্টার নামতে পারছে না, সেখানে বিশেষ কমান্ডো দলকে আকাশপথে নামিয়ে আহতদের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে।

পরিবার হারানোর মর্মান্তিক গল্প

দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে সুকি জেলার দিবা গুল উপত্যকায়, যেখানে একটি পরিবারের ৩৫ জন সদস্য একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন।

আহত অবস্থায় বেঁচে যাওয়া আকতার মোহাম্মদ জানান—

“আমি ঘুমাচ্ছিলাম, হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে আমাদের পুরো ঘর ভেঙে পড়ে। আমার পুরো পরিবার পাথরের নিচে চাপা পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বড় ভাই এসে ডাকাডাকি করেন, তখন আহত ছোট ভাই কষ্টে সাহায্য চাইছিল। তাকে উদ্ধার করা গেলেও আমি দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলাম।”

অন্য এক দুর্গত খির মোহাম্মদ বলেন—

“আমার এক ভাই সামান্য আহত, আরেকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার বাবা-মা, চার ভাই, দুই বোন, বউ-ঝি, সন্তান, ভাতিজা—সবাই মারা গেছে।”

 

তালেবান প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এত বেশি যে, কেবল অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ভূমিকম্পে বেঁচে যাওয়া হাজারো মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে এই ভয়াবহ ভূমিকম্প আফগানিস্তানকে নতুন করে বিপর্যস্ত করেছে। যতক্ষণ না আন্তর্জাতিক সাহায্য দ্রুত পৌঁছায়, ততক্ষণ প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তেই পারে।