নৌপরিবহন মন্ত্রীর অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো ও সংযমী হওয়ার আহ্বান
বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমির অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আয়োজনের সংস্কৃতি পরিবর্তনের কথা বলেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমিতে বিশ্ব নৌ দিবস ও অ্যাকাডেমির ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং সংযমী হওয়ার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, “প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সংযমী হতে হবে। বড় আয়োজন, অতিরিক্ত সাজসজ্জা ও আনুষ্ঠানিকতার পেছনে ব্যয়ের সংস্কৃতি পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।” তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন যে অনুষ্ঠানের শেষ দিকে তিনি দাফতরিক কার্যক্রম দেখেছেন। তাঁর মতে, অনেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই বক্তব্য দিয়েছেন, অথচ আয়োজন ও আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে সীমিত আয়োজনেও অতিথিরা আনন্দ ও সন্তুষ্টির সাথে অংশ নিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটা সংস্কৃতি হয়ে গেছে—বড় আয়োজন, বড় ব্যবস্থাপনা। ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলে ৬৪ পাউন্ড কেক, ১০০ বছর হলে ১০০ পাউন্ড কেক, জাহাজের আদলে কেক। এ ধরনের বিষয়গুলো পরিবর্তন করা দরকার।” মন্ত্রী বর্তমান সময়ে আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও সংযমী হওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় না করে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে অর্থ ব্যয়ের গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি আয়োজক, মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন।
বিদেশী অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন যে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলোতেও অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের বিষয়ে সতর্কতা দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, সেখানে আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে কফিতে চিনি থাকবে কি-না, দুধ কী ধরনের হবে—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়। অথচ আমাদের দেশে অনেক সময় আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যয় করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “আরো বেশি সংযম এবং ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা দরকার। এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এখনকার যুগে খুব বেশি মানানসই নয়।”
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাপরিচালক কমান্ডার মো: শফিউল বারী, বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এ বি এম শামীমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, ক্যাডেট ও অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।