মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ৩,৯০৫ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পদ শূন্য, ৩,১২৮ পদে নিয়োগের প্রস্তাব জনপ্রশাসনে

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র অনুযায়ী অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ শতাংশ শূন্য থাকায় মাঠপর্যায়ে কৃষিসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সমমানের ৩ হাজার ৯০৫টি পদ শূন্য রয়েছে। অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ শতাংশ ফাঁকা থাকায় মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও কৃষিসেবা নিশ্চিত করতে জনবলসংকটের চিত্র উঠে এসেছে। এ অবস্থায় শূন্য পদের মধ্যে ৩ হাজার ১২৮টিতে নিয়োগের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে অধিদপ্তর।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের কার্যপত্রে এসব তথ্য রয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম। বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কমিটির সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও মো. গোলাম রছুল, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যপত্র অনুযায়ী, অধিদপ্তরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা সমমানের পদের অনুমোদিত সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯৯। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ১০ হাজার ৯৯৪ জন, ফলে ৩ হাজার ৯০৫টি পদ ফাঁকা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর পাঠানো প্রস্তাবে এর মধ্যে ৩ হাজার ১২৮টি পদে নিয়োগ চাওয়া হয়েছে, অর্থাৎ শূন্য পদের প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নিয়োগ কার্যক্রমের অগ্রগতি নির্ভর করছে। কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের লিখিত পরীক্ষায় ৪৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফসল উৎপাদন, রোগবালাই দমন, সার ও বালাইনাশকের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব। ফসলের মৌসুমে রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানে মাঠে পর্যাপ্ত জনবল থাকা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

বৈঠকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষকবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ, সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং সম্প্রসারণ সেবার মান উন্নয়নে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।