রাজশাহী মহানগরের উপশহর এলাকায় একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে ৪৮ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ৩টার দিকে বোয়ালিয়া থানার আওতাধীন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল এ অভিযান চালায় বলে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, অভিযানের সময় আরও কয়েকজন পালিয়েছেন।
আরএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপশহরের সেক্টর-২ এলাকার একটি প্লটে থাকা ছাপড়া টিনশেড ঘর থেকে বিক্রির জন্য রাখা ওই গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে; পুলিশ বলছে, ফোন দুটি মাদক কেনাবেচার কাজে ব্যবহার হতো।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন পবা থানা এলাকার মো. সজিব (২৭) এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানা এলাকার মো. রায়হান (২০)। পুলিশ জানায়, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজপাড়া থানা এলাকার বিপ্লব আলী (৩৯) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই থেকে তিনজন কৌশলে পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি ও মামলা
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন ও পলাতকেরা পেশাদার মাদক কারবারি এবং পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। গ্রেপ্তার সজিবের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আগের একটি মামলা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বা তাঁদের আইনজীবীর কোনো বক্তব্য পুলিশের বিজ্ঞপ্তি কিংবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতক ব্যক্তিদের আসামি করে বোয়ালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক ব্যক্তি ও অজ্ঞাতপরিচয় অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আরএমপি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পদ্মা টাইমসও সোমবার একই তথ্য দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে।
কয়েক দিনের ব্যবধানে আরেকটি বড় চালান
নগরে কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি গাঁজার আরেকটি বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা। দৈনিক ইত্তেফাকের খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নগরের কুমারপাড়ায় একটি পার্সেল সার্ভিস থেকে ২৮ কেজি গাঁজাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫। বাহিনীটির প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, কুরিয়ারের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে ওই অভিযান চালানো হয় এবং পরে গ্রেপ্তার যুবককে বোয়ালিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তখন জানিয়েছিল এসআরবি।