রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

সৌদি আরবে সোফা কারখানার আগুনে নিহত নওগাঁর পাঁচজনসহ সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরল প্রায় তিন মাস পর

রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার ২ মাস ২২ দিন পর মরদেহ পৌঁছায়; শনিবার আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালিয়াসহ নিজ নিজ গ্রামে জানাজা ও দাফন হয়।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার ২ মাস ২২ দিন পর নওগাঁর পাঁচজনসহ সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মরদেহবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর স্বজনেরা সেগুলো নিয়ে নিহতদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁ ও নাটোরের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুরের পর মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নওগাঁর পাঁচজনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে আসর ও মাগরিবের পর নিজ নিজ গ্রামে।

নিহতদের একজন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক। তাঁর মরদেহ বিকেল চারটার দিকে গ্রামে পৌঁছায়। মিনহাজের বাবা আক্কাস প্রামাণিক বলেন, এক বছর আগে সাত লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন। দালালচক্রের মাধ্যমে যাওয়ার পর এক বছরেও তাঁর ইকামা হয়নি। মৃত্যুর চার মাস আগে রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় কাজ পেয়েছিলেন এবং কিছু টাকা বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন।

আক্কাস প্রামাণিক জানান, কাজ করে ঋণ পরিশোধের পর দেশে বাড়িঘর করার ইচ্ছা ছিল মিনহাজের। ছেলেকে হারিয়ে এখন ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।