বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

নতুন ব্যাংকের আবেদন আট বছরে ঝুলে, খেলাপি ঋণ নিয়ে প্রশ্ন

খেলাপি ঋণ বাড়ায় নতুন ব্যাংকের আবেদনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, তারল্য সংকট, এবং আস্থার ঘাটতিতে ভুগছে। এর মধ্যেই দেশে নতুন একটি ব্যাংক স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তাদের একটি দল বেশ কয়েক বছর ধরে আবেদন করে আসছে। তবে আবেদনটি আট বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। উদ্যোক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের আবেদনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে লাইসেন্সের দাবি জানিয়েছেন। অর্থনীতিবিদরা নতুন ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাবে আপত্তি তুলেছেন। অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, 'দেশে নতুন করে ব্যাংকের প্রয়োজন নেই।' একইভাবে, ড. শহিদুল ইসলাম জাহীদ মন্তব্য করেন যে, 'নতুন কোনো ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার পেছনে কোনো অর্থনৈতিক যুক্তি নেই।' বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে বর্তমান ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা চিন্তা করলে নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেওয়ার পক্ষে অর্থনৈতিক যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। হুমায়ুন কবীর পাটওয়ারী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবিতে লিখেছেন। তার মতে, ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। অথচ আবেদনটি এখনও ঝুলে আছে। এ চিঠিতে প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও করা হয়েছে। নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য মূলত দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করা হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোক্তারা চিঠিতে তাদের প্রস্তাবের গুরুত্ব এবং সম্ভাব্যতার কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী অর্থ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে এ বিষয়ে এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। উদ্যোক্তারা এখনো তাদের আবেদন বাস্তবায়নের আশায় রয়েছেন। বর্তমান ব্যাংকিং পরিস্থিতির উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুশাসন কৌশল কার্যকর করতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।