শনিবার (৪ অক্টোবর) ভোরে গাজার ওমর আল-মুখতার সড়কে ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো নগরী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর টানা বোমাবর্ষণে সাতজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে। ওই জবাবে হামাস গাজা উপত্যকার প্রশাসন নির্দলীয় ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের হাতে তুলে দিতে এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু—হামাসের নিরস্ত্রীকরণ—সম্পর্কে সংগঠনটি কোনো অবস্থান জানায়নি। তবুও হামাস জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অবিলম্বে শান্তি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
হামাসের বিবৃতি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমি বিশ্বাস করি হামাস এখন স্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত। আমি ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেছি।”
কিন্তু ট্রাম্পের আহ্বান অগ্রাহ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী নতুন করে গাজায় হামলা চালায়। স্থানীয় সময় ভোর ৫টার দিকে এই হামলায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারান বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ অভিযানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ৬৬ হাজার ২৮৮ জন নিহত ও এক লাখ ৬৯ হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজারো মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণে ইসরায়েলে ১,১৩৯ জন নিহত ও প্রায় ২০০ জন বন্দি হয়েছিলেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হামাসের এই নতুন প্রস্তাব এবং ট্রাম্পের শান্তি আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ইসরায়েলের বর্তমান সামরিক মনোভাব সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।