গাজায় যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন, সম্মত ব্যবস্থা অনুযায়ী সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন নীতির অবসান চেয়েছে কাতার ও ফ্রান্স। দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর আলোচনার পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ এ অবস্থান জানায়।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর এলিজে প্রাসাদের প্রকাশ করা বিবৃতি অনুযায়ী, মাখোঁ ২০ ও ২১ অক্টোবর দোহায় রাষ্ট্রীয় সফর করেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, উপসাগরীয় সফরের অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয় এবং কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিটি প্রকাশ করে।
গাজা ও পশ্চিম তীর
বিবৃতিতে দুই নেতা পশ্চিম তীর অধিগ্রহণের যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বসতি নীতি এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের দাবি জানান তাঁরা।
গাজা প্রসঙ্গে দুই দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব এবং যুদ্ধ অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানায়। সংশ্লিষ্ট চুক্তি মেনে চলতে সব পক্ষকে তাগিদ দিয়ে তারা যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, সম্মত ব্যবস্থা অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং গাজাবাসীর কাছে ‘কোনো শর্ত বা বিধিনিষেধ ছাড়াই’ দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ওপর জোর দেয়।
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রসহ দ্বিরাষ্ট্র সমাধান এবং ফিলিস্তিনে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স।
২০২৫ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও প্রাণহানি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে মিডল ইস্ট আই গত ১৫ অক্টোবর জানায়, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫০১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন।
ইরান, হরমুজ ও লেবানন
বিবৃতিতে অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ইরানের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে কেবলই শান্তিপূর্ণ, তা যাচাইযোগ্যভাবে নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেয় দুই দেশ; এ লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেন মাখোঁ। হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাধা বা মাশুল ছাড়াই নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
লেবানন নিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন ইউনিফিলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেন সেখানে নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি না হয়। ত্রিপক্ষীয় কাঠামো চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ও লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পক্ষেও মত দেয় দুই দেশ। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতেও সম্মত হয়েছে কাতার ও ফ্রান্স।