রাবির শিক্ষার্থীকে মারধর: রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ঘেরাও
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেল যোগাযোগ ব্যাহত করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০ সেপ্টেম্বর রাতে এই ঘটনা ঘটে এবং এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্টেশন ঘেরাও করে রাখে। আহত শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী। মারধরের পর আইয়ুব আলীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন এবং নাক দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সাথে আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় আইয়ুব আলী পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করা হয়। তার সহপাঠী নাইমুল ইসলাম অভ্র জানান, 'মারধরের পর আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। কয়েকবার বমি করেছেন এবং তার নাক দিয়ে রক্তপাত হয়েছে।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো: ফরিদুল ইসলাম আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে যান এবং এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'রেলের কর্মচারীরা তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে মারধর করেছেন। তার চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।' ড. ফরিদুল আরও বলেন, 'ঘটনার সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।'
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এর ফলে রাজশাহীর সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা দ্রুত বিচার দাবি করছে। রেল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার ব্যাপারে কাজ করছে।