ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলা এক নারী ব্যবসায়ীকে সোমবার গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে রোববার রাতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে ঘেরাও করলে উত্তেজনার মধ্যে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশ ও ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর ভালুকা উপজেলার একটি মার্কেটে বিউটি পারলার ও শোরুম রয়েছে। রোববার বেলা দুইটার দিকে তিনি দুটি ফেসবুক লাইভ করেন। ভিডিওতে তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করার কথা বলে অভিযোগ করেন, এ বছর একের পর এক চুরির ঘটনায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত মাসে তাঁর একটি দোকান থেকে এসির তার চুরি হয়েছিল; রোববার এসে তিনি দেখেন, দুটি শোরুমের বিদ্যুতের তার ও একটি শোরুমের এসির তার কেটে নেওয়া হয়েছে। আশপাশের আরও কয়েকটি দোকানেও একই ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বিএনপি সরকারকে ভোট দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। ভালুকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তির কারণে এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন; খবর পেয়ে তাঁরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সোমবার মুঠোফোনে বলেন, তিনি ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও চারবার পর্যালোচনা করেছেন, কিন্তু সরকারবিরোধী বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি। তাঁর মতে, এ ধরনের বক্তব্য বাক্স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে এবং পুরো ভিডিও না দেখে গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। ওসির দাবি, ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী কথা বলতে গেলে ওই নারী তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন, এতে উত্তেজনা তৈরি হয়; এ কারণে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এই ধারাটি মূলত পুলিশের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। আমলযোগ্য অপরাধ ঘটতে পারে—এমন সন্দেহ হলে পুলিশ তা ঠেকাতে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। ময়মনসিংহ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে শুনানি হয়। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি; পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।