রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আলিম পরীক্ষায় ২৭ মাদ্রাসার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে শুধু একটি, পাসের হার ১০ শতাংশেও

জেলার ২৭টি মাদ্রাসার মধ্যে কেবল সদরের একটি প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন; কয়েকটি মাদ্রাসায় পাসের হার ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার ফলে জেলার ২৭টি মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। বাকি ২৬টি মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পাননি। একই সঙ্গে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে ১০ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জেলার ২৭টি মাদ্রাসার ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, জেলা সদরের শংকরবাটি হেফজুল উলুম ফায়েজা খানম কামিল মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাঁচজন উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দুজনই জিপিএ-৫ পান। সাধারণ বিভাগ থেকে পাস করেছেন আরও ১৭ জন; সব মিলিয়ে মাদ্রাসাটির ২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল খালেক বলেন, জেলায় জিপিএ-৫ পাওয়া দুজনই তাঁর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তবে প্রতিষ্ঠানের ফল আরও ভালো হবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা ছিল।

জেলার পরিচিত কয়েকটি মাদ্রাসায় পাসের হার তুলনামূলক কম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ৪২ জন, কানসাট সাইফুদ্দীন মেমোরিয়াল ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৬ জন এবং শিবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পাস করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার যথাক্রমে ৭৩ দশমিক ৬৮, ৭২ ও ৫৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

আরও হতাশাজনক ফল হয়েছে কয়েকটি মাদ্রাসায়। জেলা সদরের ঝলঝলিয়া ইসলামী সমাজকল্যাণ আলিম মাদ্রাসায় ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র একজন; পাসের হার ১০ শতাংশ। বরধাই চন্দপুর বাইলকাপাড়া আলিম মাদ্রাসায় পাসের হার ১৬ শতাংশ, তেলকুপি কলমদার আলিম মাদ্রাসায় ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গোয়ালবাড়ি দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসায় ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খালে আলমপুর দারুস সুন্নাত আলিম মাদ্রাসায় ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

জেলার সার্বিক ফল নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, এবার সারা দেশেই শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফল করতে পারেননি, চাঁপাইনবাবগঞ্জও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি জানান, গত কয়েক বছরের ফল পর্যালোচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঘাটতি চিহ্নিত করা হবে এবং এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।