কুমিল্লা নগরে সাদাপোশাকে তল্লাশি চালানো দুই পুলিশ সদস্য ও একজন সোর্সকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নগরের পুলিশ লাইনস-সংলগ্ন রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে বিষয়টির সমাধান করা হয়।
ক্যাম্পাসে নেওয়া তিনজনের একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা, একজন কনস্টেবল হানিফ এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স জাহিদ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা ও চলমান কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাঁরা সাদাপোশাকে টহল দিচ্ছিলেন। সন্দেহজনক মনে হওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে তল্লাশি করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আরও শিক্ষার্থী সেখানে আসেন। এএসআই শ্যামল সাহার দাবি, তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শও দেন, কিন্তু তাঁদের জোর করে টেনে বাসে তোলা হয়।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য ভিন্ন। পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিফাত হোসেন ও তানভীর আলম জানান, তাঁরা টিউশন শেষে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে দুজন তাঁদের গতিরোধ করেন এবং তল্লাশির নামে পকেটে হাত দেন। তল্লাশিতে কিছু না পেয়ে তাঁরা চলে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র দেখতে চান। তখন তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখালেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এতে তাঁদের ছিনতাইকারী সন্দেহ হয় বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। সিফাত হোসেনের ভাষ্য, এভাবে কারও পকেটে হাত দেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার বিশ্ববিদ্যালয়গামী বাসে তাঁরা তিনজনকে তুলে ক্যাম্পাসে আনেন এবং বাসে ও ক্যাম্পাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা মারধর করেন। পরে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নেওয়া হয়।
প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানান, তিনজনের মধ্যে দুজন কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সদস্য এবং একজন সোর্স। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান নিয়মিত চলছে এবং এতে অনেক পুলিশ সদস্য সাদাপোশাকে কাজ করেন।