শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

দালালের প্রতারণায় কম্বোডিয়ায় গিয়ে অনাহার ও চিকিৎসাহীনতায় কুলাউড়ার তরুণ নায়িম আহমদের মৃত্যু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার নায়িম আহমদ (২৪) কম্বোডিয়ার সিয়ানুকভিলের একটি হাসপাতালে বুধবার মধ্যরাতে মারা গেছেন; পরিবারের দাবি, দালালের প্রতারণা ও অনাহারে তাঁর এ পরিণতি।

ভালো কাজের আশায় কম্বোডিয়ায় গিয়ে তীব্র অনাহার ও চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার তরুণ নায়িম আহমদ (২৪)। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার দিকে কম্বোডিয়ার সমুদ্রবন্দর নগরী সিয়ানুকভিলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, কুলাউড়া উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের লালারচক গ্রামের সৌদি প্রবাসী ইয়ামিস আলীর ছেলে নায়িম প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় যান। সেখানে তাঁকে সিয়ানুকভিলে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে লাগানো হয়। কিছুদিন পর কাজ হারিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দালালের আর খোঁজ মেলেনি।

বৈধ ভিসা না থাকায় নতুন কাজও জোটেনি। আর্থিক সংকটে সমুদ্রের পাড়ে এক ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নেন তিনি। দিনের পর দিন না খেয়ে থেকে একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আজিজুর রহমান দুরুদ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই দালালের প্রলোভনে পড়ে এলাকার প্রায় আটজন তরুণ জমি বিক্রি করে ও ঋণ করে কম্বোডিয়ায় গিয়েছেন। ভালো কাজের কথা বলা হলেও তাঁদের আসলে পর্যটক ভিসায় পাঠানো হয়েছিল। অভিযুক্ত দালাল এখন পলাতক। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাঁর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

ছেলের মৃত্যুর খবরে মা মাহাসিফা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। নায়িমের লাশ কবে দেশে ফিরবে, তা নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় আছে।