দেশের পুঁজিবাজারে টানা পতনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা। সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসেও দুই শেয়ারবাজারে সূচকের অবনতি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দাবি, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রতিদিন যে বিক্রয়চাপ তৈরি হচ্ছে, তার কারণ খতিয়ে দেখুক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
মঙ্গলবার মতিঝিলে ডিএসইর বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের ট্রেডিং ফ্লোরে উপস্থিত বিনিয়োগকারীরা বলেন, সূচকের ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও দিনের পর দিন এভাবে পতন মেনে নেওয়া যায় না। কারা বাজারে বিক্রয়চাপ তৈরি করছে এবং এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খুঁজে বের করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব বলে তাঁরা মনে করেন। তাঁদের ভাষ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আশ্বাস মেলায় বাজার গতি ফিরে পেয়েছিল, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ধারাবাহিক পতন শুরু হয়েছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মঙ্গলবার ১২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দিন শেষ করেছে। সকালে সূচকটি ৫ হাজার ৩৯৯ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। শুরুতে ২২ পয়েন্টের বেশি বাড়লেও লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপ বাড়ে এবং সোয়া ১২টার দিকে সূচক ৫ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে নেমে আসে। শেষ দিকে বিক্রয়চাপ কমলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ৮৩ এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট কমেছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে পতনের মাত্রা ছিল আরও বেশি। সেখানে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫০০ দশমিক ৮০ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচক কমেছে যথাক্রমে ৪৩ দশমিক ৮১ ও ২৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট।
এদিকে সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরের জন্য স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ১৩০ শতাংশ এবং একমি ল্যাবরেটরিজ ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা কোম্পানি দুটির অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। স্কয়ার ফার্মা আগের দিনের দরেই লেনদেন শেষ করেছে। একমির শেয়ারের শেষ লেনদেন ৭৭ দশমিক ৫০ টাকায়, আগের দিন যা ছিল ৭৭ দশমিক ১০ টাকা।
পুঁজিবাজার–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার নেতিবাচক থাকলে ভালো লভ্যাংশেও তেমন প্রভাব পড়ে না, কারণ মন্দা বাজারে এক কোম্পানির শেয়ার বেচে অন্যটি কিনতে গেলে বড় লোকসান গুনতে হয়। তাঁদের পরামর্শ, বিনিয়োগে নিয়মিত ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি। কোম্পানিটি ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, আগের বছর যা ছিল ২০ শতাংশ। ১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকায় ৩১ লাখ ৪৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল প্রাইম ব্যাংক।