সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতিতে মন্ত্রী-এমপিদের তদবির বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবিরকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পছন্দমতো বদলি ও পদায়ন পেতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সুপারিশ করাচ্ছেন। কখনো মৌখিকভাবে, কখনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে এসব তদবির করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, সম্প্রতি এক সহকারী প্রকৌশলীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় বদলির সুপারিশ করে একই সচিবের কাছে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে চিঠি দিয়েছেন একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া এক মন্ত্রী চার যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বলেও সূত্রগুলো জানায়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকারি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির বন্ধে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২০ বিধি অনুযায়ী এ ধরনের তদবিরকে বিধিমালার লঙ্ঘন বলা হয়েছে; শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে, আর কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার খুবই কঠোর; ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকার ব্যবস্থা নেবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে; সুপারিশের মাধ্যমে চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা শৃঙ্খলাপরিপন্থি ও আচরণবিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, এ প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।