ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ এবং ইয়েমেনের শাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চেয়েছে—এমন প্রতিবেদনকে সরাসরি অস্বীকার করেছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা প্রতিবেদনটি ‘সম্পূর্ণ অস্বীকার’ করেন।
বুধবার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থামাতে হুতিরা প্রায় ৫১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ছয় লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা) চেয়েছে। সৌদি বিমান হামলা ও দীর্ঘ অবরোধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল। সেখানে আরও বলা হয়, পরে দাবির অঙ্কে কিছু পরিবর্তন এলেও বার্তা ছিল স্পষ্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালীর কাছে বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের পর রিয়াদ আলোচনার উদ্যোগ নেয়। মন্তব্যের অনুরোধে সৌদি সরকার ও হুতিরা সাড়া দেয়নি বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।
এক্স-এ দেওয়া পোস্টে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বলেন, প্রতিবেদনটির ‘কোনো সত্যভিত্তি নেই’। তিনি এটিকে প্রতিবেদন লেখক বা তাঁদের সূত্রের বানানো কথা বলে বর্ণনা করেন। ক্রিমলি হুতিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, দেশটির মানুষকে অনাহারের দিকে ঠেলে দেওয়া, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা এবং শান্তি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ তোলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইয়েমেনের ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ইতোমধ্যে আছে’।
মার্কিন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, গত গ্রীষ্মে সৌদি তেলস্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে সংঘাত ছড়ায় এবং ২২ জুলাই হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। হুতিরা বর্তমানে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের প্রায় ৫০ মাইলের মধ্যে পৌঁছে গেছে বলেও তাতে উল্লেখ ছিল। দুই পক্ষের বক্তব্যের এই বৈপরীত্যের কোনো স্বাধীন নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।