শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

হেবরনে ২ ইসরায়েলি সেনা নিহত: পশ্চিম তীর পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতির নির্দেশ নেতানিয়াহুর

হেবরনের কাছে চেকপয়েন্টে গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হেবরন ঘেরাও ও পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন।

দখলকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের কাছে একটি চেকপয়েন্টে শুক্রবার গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর পুরো পশ্চিম তীর অবরুদ্ধ করার প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মিডল ইস্ট আই ও আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ভোরে হেবরনের উত্তরে একটি চেকপয়েন্টে দুই ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রায় ২০ মিনিটের গোলাগুলিতে দুই সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন; হামলাকারী দুজনকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। আরব নিউজ জানিয়েছে, হামলায় মোট পাঁচজন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন, যাঁদের দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা সেবা মাগেন ডেভিড অ্যাডম জানিয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট আই বলেছে, হামলাকারী দুজন হেবরনের একই পরিবারের সদস্য।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে নেতানিয়াহু হেবরন ঘেরাও এবং পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধের প্রস্তুতির কথা জানান। তাঁর কার্যালয়ের বরাতে আরব নিউজ লিখেছে, তিনি বলেছেন, হামলাকারীদের এলাকায় ঢুকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে মিলে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর যেমন চালানো হয়নি, এমন একটি ব্যাপক সামরিক অভিযানের কথা ভাবছেন; অভিযানের সময় ইসরায়েল ঠিক করবে, তবে তা ‘আসছে’। মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জেনিন ও তুলকারেমের শরণার্থীশিবিরে চালানো অভিযানের মতো পদক্ষেপের কথা বলেছেন; ওই অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হেবরনকে ‘ঘেরাওয়ের’ মধ্যে রেখেছে। ফিলিস্তিনি ওয়াকফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, ইসরায়েলি বাহিনী হেবরনের ইবরাহিমি মসজিদ বন্ধ করে এর কর্মীদের বের করে দিয়েছে; মন্ত্রণালয় একে পবিত্র স্থানের মর্যাদার ‘স্পষ্ট ও চলমান লঙ্ঘন’ বলেছে। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এ ঘটনার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ভেঙে ফেলার দাবি আবার তুলেছেন।

আরব নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে নির্বাচন, যেখানে নেতানিয়াহু কঠিন লড়াইয়ের মুখে। হামলার প্রেক্ষাপটে তিনি লিকুদ পার্টির সব রাজনৈতিক সভা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। হামাস দায় স্বীকার না করলেও হামলাকে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ আখ্যা দিয়ে আরও হামলার আহ্বান জানিয়েছে।