বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

মেট্রোরেলে অসুস্থ হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপকের মৃত্যু, ছেলের আক্ষেপ: কেউ বসতে দিলে...

ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ বোধ করায় বসার সুযোগ চেয়েও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন নজীবুর রহমানের ছেলে; ২৪ অক্টোবরের ওই ঘটনায় ছেলের ভাষ্য, তিনি কাউকে দোষারোপ করছেন না।

ঢাকায় মেট্রোরেলে ভ্রমণের সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নজীবুর রহমান (৬৪)। গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। তাঁর ছেলে নাকিবুর রহমানের অভিযোগ, প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ বোধ করায় বাবা আসনে বসা যাত্রীদের কয়েকবার বসার সুযোগ চেয়েছিলেন, কিন্তু কেউ সাড়া দেননি।

নাকিবুর রহমান জানান, ওই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন তাঁর বাবা। বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ স্টেশন থেকে উত্তরার উদ্দেশে মেট্রোরেলে ওঠেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। কয়েক দিনের ছুটি শেষ হওয়ায় সেদিন ট্রেনে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। আসন না পেয়ে দুজনই ভেতরের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন, ঠেলাঠেলিতে একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ঘটনার বিবরণ নাকিবুর ওই সহকর্মীর কাছ থেকেই শুনেছেন বলে জানান।

নাকিবুরের ভাষ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিনটার দিকে ট্রেন শেওড়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ঠেলাঠেলির মধ্যে নজীবুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েন। বসে থাকা যাত্রীদের কাছে কয়েকবার বসার সুযোগ চাইলেও সাড়া মেলেনি। এর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। পাশের যাত্রীরা তাঁকে ধরে তোলার চেষ্টা করেন; পরে বোঝা যায়, তিনি বেঁচে নেই। নাকিবুরের ধারণা, পড়ে যাওয়ার সময়ই তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছিল।

উত্তরা উত্তর স্টেশনে নামানোর পর আনসার সদস্যদের সহায়তায় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চিকিৎসকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন। নাকিবুর জানান, তাঁর বাবার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ ছিল।

বাবার মৃত্যুর সময় পরিবারের কেউ পাশে ছিলেন না। নাকিবুর জানান, তাঁর মা ও ছোট ভাই তখন ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে ছিলেন; বিমানের টিকিটসংক্রান্ত জটিলতায় সময়মতো দেশে ফিরতে পারেননি। বোন পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে থাকেন, আরেক ভাইও সেখানে পড়াশোনা করছেন। তাঁরাও আসতে পারেননি। পরিবারের এই সদস্যদের ছাড়াই বরিশালের গৌরনদী উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নজীবুর রহমানকে দাফন করা হয়।

নাকিবুর বলেন, ‘ছেলে হিসেবে আজীবন একটাই আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে বসতে দিতেন। তাহলে হয়তো বাবা এভাবে নিচে না পড়ে, কারও কোলে মাথা রেখে মারা যেতে পারতেন।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। যে কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। বয়স্ক মানুষের প্রতি আমাদের সবার সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত।’