শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করল পাকিস্তান; তুরস্কের সংসদে বিল জমা

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া তারা সম্পন্ন করেছে।

তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা জানিয়েছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড মুখপাত্রের বক্তব্যের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে।

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখপাত্র বলেছেন, চুক্তিটি তিন দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগিতার অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তাঁর ভাষ্য, প্রতিটি দেশ আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিজস্ব সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। সৌদি আরবও তাদের অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করেছে বলে তিনি জানান।

চুক্তির অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলো এখনো তিন দেশের মধ্যে আলোচনার মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটিও, যার সাম্প্রতিক বৈঠক হয়েছিল ৫ অক্টোবর। পাকিস্তান চুক্তির “আক্ষরিক ও মর্মগত” অঙ্গীকারে অটল জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, এটি প্রকৃতিতে প্রতিরক্ষামূলক, জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে প্রণীত।

গত ৭ আগস্ট মক্কায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। টিআরটির তথ্যমতে, চুক্তির লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষার মাধ্যমে তিন দেশের নিরাপত্তা জোরদার করা।

পাকিস্তান ও সৌদি আরবের অনুমোদন সম্পন্ন হলেও তুরস্কে প্রক্রিয়া চলছে। দেশটির সংসদে বুধবার তিন অনুচ্ছেদের একটি বিল জমা দেওয়া হয়েছে। বিলটি প্রথমে সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে বিবেচনা করা হবে; কমিটি অনুমোদন দিলে তা সংসদের সাধারণ অধিবেশনের কার্যতালিকায় উঠবে।

টিআরটি জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনার মধ্যেই এই চুক্তি এল। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নেই; জুনে ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও আলোচনা প্রায় ভেঙে গেছে এবং পাকিস্তানসহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অপ্রত্যক্ষ আলোচনা স্থবির অবস্থায় আছে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম হিসেবে টিআরটির বর্ণনা ও মূল্যায়ন এখানে তাদের নিজস্ব। এই প্রতিবেদনটি শুধু টিআরটি ওয়ার্ল্ডের একক সূত্রনির্ভর।