পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণ ও বিনিয়োগের প্রায় ৮৮ শতাংশই খেলাপি। প্রতি মাসে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা লোকসান গুনছে ব্যাংকটি। এমন পরিস্থিতিতে ব্যয় সংকোচন ও বিদ্যমান জনবল কাজে লাগানোর বদলে নতুন করে উচ্চ বেতনে কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
আগস্টের শেষ নাগাদ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির মোট আমানত ১ লাখ ২৮ হাজার ১১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে মোট ঋণ ও বিনিয়োগ ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৭৩ হাজার ২১২ কোটি টাকা। ফলে খেলাপি ঋণ আদায়, আয় বাড়ানো এবং আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোই এখন প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যবসা সম্প্রসারণে দৃশ্যমান কৌশলের অভাবের কথাও উঠে এসেছে।
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার আলাদাভাবেও উদ্বেগজনক। আগস্টের শেষ নাগাদ তথ্য অনুযায়ী এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৭৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ০৪ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। এর মধ্যে তিনটি ব্যাংকের ঋণের প্রায় পুরোটাই খেলাপি হয়ে গেছে।
ব্যাংকটিতে বর্তমানে পাঁচ প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে জনবল ১৫ হাজার ১৩৫ জন। এর মধ্যে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩ হাজার ৯৪৮, এক্সিম ব্যাংকের ৩ হাজার ১৩৮, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৪ হাজার ৯৯, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ২ হাজার ২৪২ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের ১ হাজার ৭০৮ জন কর্মী আছেন। এত বিপুল জনবল থাকার পরও নতুন নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একীভূতকরণের পর ঋণ আদায় বাড়ানো এবং ব্যাংকটির আর্থিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।