পোল্যান্ডের ঐতিহাসিক শহর ক্রাকোর একটি উন্মুক্ত চত্বরে শনিবার বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। পোলিশ পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন, যাদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এদের একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রাথমিক কিছু খবরে নিহতের সংখ্যা পাঁচ বলা হয়েছিল।
পুলিশের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে শহরের ঐতিহাসিক মেইন মার্কেট স্কয়ারে ঢুকে পড়েন এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। তাঁর পরনে সামরিক ইউনিফর্মের মতো পোশাক ছিল এবং সঙ্গে ছিল সামরিক ধাঁচের অস্ত্র। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার সময় তিনি আবার গুলি ছোড়েন, তাতে দুজন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি জানান, পুলিশ গুলি করে সন্দেহভাজনকে নিবৃত করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স ২৫ বছর এবং তিনি পোল্যান্ডের নাগরিক। মন্ত্রীর ভাষ্য, সন্দেহভাজন “কট্টর ডানপন্থী মতাদর্শে” অনুপ্রাণিত ছিলেন। একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন, এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র তিনি নিজের বাড়ি থেকে নিয়ে এসে থাকতে পারেন বলে মন্ত্রী জানান; এ নিয়ে তদন্ত চলছে।
প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দুজন নারী ও একজন পুরুষ। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তাঁরা সন্দেহভাজনের পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্য। জব্দ করা গাড়ি থেকেও বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ নিশ্চিত করেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর সদস্য নন। তিনি ঘটনাটিকে “সন্ত্রাসী হামলা” বলে অভিহিত করেন এবং সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হাসপাতালে অনেকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন; আহত পুলিশ সদস্য হামলাকারীকে আরও গুলি চালানো থেকে ঠেকাতে ভূমিকা রেখেছেন।
ক্রাকো শহরের মেয়র লুকাশ গিবালা আগামী বুধবার পর্যন্ত শোক ঘোষণা করেছেন।