পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লট বরাদ্দে অনিয়মসংক্রান্ত প্রতিবেদন পেয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই প্লটগুলোর নথির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানায়। বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিবেচনা এবং অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কমিটিকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪৪টি প্লট বরাদ্দ হয়েছে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, এই সময়ে রাজউকের প্লট বরাদ্দে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কাজ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হাইকোর্টের রুল আছে। সেই অনুযায়ী গঠিত কমিটি রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্দ করা প্লটের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে। এ পর্যন্ত যে প্রতিবেদনগুলো এসেছে, তাতেই পূর্বাচল ও ঝিলমিলের ১ হাজার ৭৪টি প্লটে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর একটি প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এই রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে; ভবনগুলোর ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত থাকলে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।
কমিটি জাতীয় সংসদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বৈঠকে গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুরসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।