বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জামায়াতের

জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জামায়াতের
ছবি: নয়াদিগন্ত

অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বারিন্দ পোস্ট ডেস্ক | ৭ আগস্ট ২০২৫, বুধবার

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন জরুরি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্বাচনমুখী দল। দেশের প্রতিটি বৈধ নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণ ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি।”

জামায়াত নেতা আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত টাইমলাইন অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে জুলাই অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে জাতীয় সনদ প্রণয়ন করতে হবে, যার আইনি ভিত্তি দিতে হবে বর্তমান সরকারকে। অতীতে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে লিগাল ফ্রেমওয়ার্কের (LFO) মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারও একই পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।

জুলাই অভ্যুত্থান ও ঘোষণাপত্র নিয়ে ক্ষোভ

জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. তাহের বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ পতন হয়েছে। সেই অভ্যুত্থান ছিল এক সার্বজনীন গণআন্দোলন।”

কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ২৮ দফার জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, “ঘোষণাপত্রটি অপূর্ণাঙ্গ। এতে ১৯৪৭ সালের আজাদী, পিলখানা ও শাপলা হত্যাকাণ্ড, ২৮ অক্টোবরের ঘটনা এবং আলেম-ওলামা ও ছাত্রদের ভূমিকার উল্লেখ নেই। যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার।”

সনদের মাধ্যমে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রশাসন থেকে স্বৈরাচারীদের অপসারণ এবং নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানানো হয়।

ডা. তাহের বলেন, “জুলাই সনদকে ভিত্তি করে অন্তর্বর্তী সরকারকেই আইনি কাঠামো তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে এই সরকার ও তার সংস্কার উদ্যোগ ব্যর্থ হবে।” তিনি প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাকে “জাতীয় স্বার্থে ইতিবাচক” বললেও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পূর্ব আলোচনা না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।